ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনী মাঠের শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা শেষে এখন ভোটারদের রায়ের অপেক্ষায় পাঁচ প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত কার গলায় উঠবে বিজয়ের মালা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও চলছে আলোচনা।
এ নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থীরাও নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ প্রার্থী
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। তাঁদের নাম, দল ও প্রতীক হলো—
১. মির্জা ফয়সল আমীন — বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), প্রতীক: ধানের শীষ।
২. মো. দেলাওয়ার হোসেন — বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত ১১ দলীয় জোট, প্রতীক: দাঁড়িপাল্লা।
৩. হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম — ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, প্রতীক: হাতপাখা।
৪. মো. আবদুল আলীম নিজামী — বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, প্রতীক: বটগাছ।
৫. হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক — বাংলাদেশ কংগ্রেস, প্রতীক: ডাব।
প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। ভোটারদের সমর্থন পেতে তাঁরা বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও নির্বাচনী সভায় অংশ নেন।
কেন এই উপনির্বাচন?
ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।
এ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান মির্জা ফয়সল আমীন, যিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দেলাওয়ার হোসেন।
উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রচারণা
নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বিমানবন্দর পুনরায় চালুর মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়েছেন।
অন্যদিকে দেলাওয়ার হোসেন সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অন্য প্রার্থীরাও নিজ নিজ রাজনৈতিক অবস্থান ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন চেয়েছেন।
ভোটের হিসাব-নিকাশে কারা এগিয়ে?
নির্বাচনে কোন প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলার সুযোগ নেই। ভোটারদের অংশগ্রহণ, প্রার্থীদের সাংগঠনিক শক্তি এবং বিভিন্ন এলাকার ভোটের প্রবণতা ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।
নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছে ১১ দলীয় জোট। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই; সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতেই সেগুলো মূল্যায়ন করতে হবে।
ভোটগ্রহণ কখন, কোথায়?
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আজ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী এলাকা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। ভোটাররা তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সংসদে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন।
শেষ পর্যন্ত জয় কার?
সব মিলিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। বিএনপির ধানের শীষ, জামায়াত-সমর্থিত জোটের দাঁড়িপাল্লা কিংবা অন্য তিন প্রার্থীর কোনো প্রতীক—কোনটি শেষ পর্যন্ত বেশি ভোট পাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে ভোট গণনা ও আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর। ভোটারদের রায়ে কে হবেন সংসদ সদস্য, আর কার গলায় উঠবে বিজয়ের মালা—সেই উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে চূড়ান্ত ফলাফল পর্যন্ত।