1. admin@banglatoday24.xyz : admin :
  2. info@banglatoday24.xyz : নাহিদ আলম আলম : নাহিদ আলম আলম
  3. shahjalal7633607@gmail.com : শাহজালাল আজমাঈন : শাহজালাল আজমাঈন
  4. Alraji12121j@gmail.com : আল-রাজি -ভূঁইয়া : আল-রাজি -ভূঁইয়া
  • শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ন
নোটিশ:
সম্মানিত ভিজিটর আমাদের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম...

ঐতিহ্যবাহী জীবনসঙ্গী খোঁজার ‘বউ মেলা’ এখন শুধু নামেই

প্রতিনিধির নাম / ১ বার পড়া হয়েছে
আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

২

জাতীয় ডেস্ক: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মিলনমেলা সম্প্রতি উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর পরবর্তী সময়ে প্রতিবছর এই মেলার আয়োজন করা হয়। একসময় এই আসরে জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার প্রাচীন প্রথা চালু থাকায় স্থানীয়ভাবে এটি ‘বউ মেলা’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিল। তবে যুগের পরিবর্তন এবং আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই প্রথার অবসান ঘটেছে এবং বর্তমানে এটি কেবল একটি আনন্দ উৎসব ও মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।

আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে বীরগঞ্জের গোলাপগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এই ব্যতিক্রমী উৎসবের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই সাঁওতাল সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষ পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের হাত ধরে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিত হতে শুরু করেন। দুপুরের পর থেকে মেলার প্রাঙ্গণে জনস্রোত তৈরি হয় এবং বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। হাজারো মানুষের এই সমাগমে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।

মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় থানা পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও গ্রামপুলিশের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন। আয়োজক কমিটির সভাপতি যোসেফ হেমরমের সভাপতিত্বে বিকেলে একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে বীরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা সাঁওতাল সম্প্রদায়ের এই প্রাচীন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

মেলার প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা কাচের চুড়ি, রঙিন ফিতা, লিপস্টিক, কানের দুল, ঝিনুকের মালা এবং মাটির খেলনা নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছেন। এছাড়া গৃহস্থালির কাজের প্রয়োজনীয় দা, কুড়াল, হাঁড়ি-পাতিল এবং বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারের দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বাদ্যযন্ত্রের ছন্দে সাঁওতাল তরুণ-তরুণীদের ঐতিহ্যবাহী নাচ ও গান পুরো মেলা প্রাঙ্গণকে এক আনন্দঘন সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত করেছিল।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সঠিক কত বছর আগে এই মেলার সূচনা হয়েছিল তার কোনো সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক দলিল নেই, তবে এটি বহু যুগ ধরে চলে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েরা শিক্ষায় এগিয়ে আসায় এবং আধুনিক নিয়মে সামাজিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ায় মেলার মূল চরিত্র পাল্টে গেছে। বর্তমানে এই দিনটিকে পূর্বপুরুষদের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার একটি বড় উপলক্ষ হিসেবে পালন করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
https://slotbet.online/