অর্থনীতি ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় তিন শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের পর এটিই বিশ্ববাজারে তেলের সর্বোচ্চ দাম বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বাজার বিশ্লেষকেরা। উপসাগরীয় অঞ্চলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি হামলার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনা এবং তেলক্ষেত্রে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি পারস্য উপসাগরে অভিযান চালিয়ে তেল পাচারের অভিযোগে কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায়। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালির কাছে কয়েকটি জাহাজে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবে অবস্থিত তাদের কূটনৈতিক মিশনগুলো থেকে কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি জায়ান্ট আরামকো তাদের প্রধান কার্যালয়ের কর্মীদের আপাতত দূর থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করার নির্দেশ জারি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার ফলেই উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে এই অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজার ও ব্যবসা-বাণিজ্যে। মূল্যস্ফীতি ও ঋণের সুদের হার আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ইউরোপ ও এশিয়ার প্রধান প্রধান শেয়ার সূচকগুলোতে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া জ্বালানি খরচের ঐতিহাসিক চাপের কারণে অনেক বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিমান সংস্থা তাদের আর্থিক লোকসানের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।