• চুরি ও মাদক নিয়ে উত্তেজনা: সম্প্রতি ধর্মঘর ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী হরষপুর ও সংলগ্ন কালিবাজার এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অসহায় পরিবারের গরু চুরির ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদে এই চুরি ও মাদক কারবারিদের তৎপরতা নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।মাধবপুর সীমান্ত এলাকায় চুরি ও মাদকের উদ্বেগ, নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত স্থানীয়রা
মাধবপুর প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ধর্মঘর ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় চুরি ও মাদক নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গরু চুরির একাধিক ঘটনায় কৃষক ও গৃহস্থদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের বেলায় নিরাপত্তা নিয়ে তাদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা যায়, ধর্মঘর ও পার্শ্ববর্তী চৌমুহনী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক মাসে একাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের হিসাবে, দুই ইউনিয়নে অন্তত ১৫টি গরু চুরির অভিযোগ রয়েছে। গত ১৭ জুন ধর্মঘর ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের রহমান সরদারের চারটি এবং রসুলপুর গ্রামের ইয়ামিনের দুটি গরু চুরির খবর প্রকাশিত হয়।
এছাড়া সম্প্রতি চৌমুহনী ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় ছয়টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। পরে গরুগুলো পাশের একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চোর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই রাত জেগে নিজেদের গবাদিপশু পাহারা দিচ্ছেন। মাধবপুর থানার পক্ষ থেকেও রাতে পুলিশের টহল জোরদারের কথা জানানো হয়েছেমাদক নিয়েও উদ্বেগ
সীমান্তবর্তী হওয়ায় মাধবপুরের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচার ও কেনাবেচা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। ধর্মঘর, হরষপুরসহ কয়েকটি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানও হয়েছে।
সর্বশেষ ১০ অক্টোবর ২০২৬ হরষপুর এলাকায় পুলিশের অভিযানে পুরোনো কম্বল ও ব্যবহৃত কাপড়ের বস্তার আড়ালে থাকা ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার এবং মাদক বহনের অভিযোগে দুইজনকে আটক করার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে ৬ জুন ২০২৬ ধর্মঘর ইউনিয়নের আহম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে হরষপুর–ধর্মঘর সড়কে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৭২ কেজি গাঁজা উদ্ধার এবং দুইজনকে আটকের খবরও প্রকাশিত হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদক ও চুরির মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান নয়, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দারা রাতের টহল জোরদার, চুরি ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।