সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দোওজ গ্রামে শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওয়াহিদ আহমদ (১৮) ও জিসান মিয়া (১২) নামে দুজন আহত হয়েছেন। আহত ওয়াহিদ আহমদকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে দোওজ গ্রামে সবুজ মিয়ার বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আহত ওয়াহিদ আহমদ দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এবং জিসান মিয়া ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় জসীম উদ্দিন দিরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে কাওছার, সবুজ মিয়া, ফাহিম মিয়া, ফারজান মিয়া ও আবুল কালামসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগে সুজাত মিয়া, মিয়াধন মিয়া ও শামিম মিয়াসহ ছয়জনের নামসহ আরও কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে জসীম উদ্দিন দাবি করেন, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তাঁর ছেলে জিসান মিয়ার সঙ্গে ফারজান মিয়ার খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া হয়। এর জের ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দা, রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় আবুল কালাম অন্যদের উদ্দেশে হত্যার নির্দেশ দেন বলে দাবি করেন অভিযোগকারী। পরে সবুজ মিয়া রামদা দিয়ে ওয়াহিদ আহমদের মাথার ডান পাশে কোপ দেন, কাওছার লোহার রড দিয়ে মাথার বাম পাশে আঘাত করেন এবং ফাহিম মিয়া দা দিয়ে মাথার বাম পাশে কোপ দেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

এতে ওয়াহিদ আহমদ গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে জিহাদ মিয়া এগিয়ে এলে ফারজান মিয়া তাঁকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন বলে দাবি করা হয়। এ সময় আত্মরক্ষার জন্য হাত দিয়ে আঘাত ঠেকাতে গিয়ে তাওহিদ মিয়ার দুই কবজিতে ফাটা ও ফোলা জখম হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ওয়াহিদ আহমদকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্য আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার বিষয়ে অভিযোগে বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১টা ৩০ মিনিটে ওয়াহিদ আহমদকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল এবং সেখানে দুটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর শরীরে মোট তিনটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপর এক আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কাওছার মিয়া বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি সুনামগঞ্জে আদালতে ছিলাম। বিকেলে এসে শুনেছি, বাচ্চাদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল।

দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।