গোবিন্দগঞ্জে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে স্বস্তি, আমন ধানের জমিতে প্রাণ ফেরার আশা কৃষকের

 

মিজানুর রহমান। গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:

 

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে। আগাম বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে অনেক কৃষিজমির মাটি শুকিয়ে যাওয়ায় আমন ধানের চাষাবাদ ও বেড়ে ওঠা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষকরা। এমন পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি কৃষকদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বৃষ্টির পানিতে জমির আর্দ্রতা কিছুটা ফিরে আসায় ধানগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফসলের উন্নতির সম্ভাবনা দেখছেন তাঁরা।

 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সময়মতো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক জমিতে পানির সংকট দেখা দেয়। কোথাও কোথাও জমির মাটি শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়। এতে ধানগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। যেসব জমিতে ধানগাছের শিষ বের হওয়ার সময় হয়েছে, সেসব জমির কোনো কোনো স্থানে শিষ বের হলেও পানির অভাবে অন্য কিছু জমিতে ধানের শিষ বের হতে দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

 

কৃষকদের ভাষ্য, ধান চাষে জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ধানগাছের বৃদ্ধি, কুশি গজানো এবং শিষ বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পানির ঘাটতি দেখা দিলে ফলনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে অনেক কৃষক জমিতে প্রয়োজনীয় পানি দিতে পারছিলেন না। কেউ কেউ সেচের মাধ্যমে জমিতে পানি দেওয়ার চেষ্টা করলেও এতে বাড়তি খরচের চাপ তৈরি হচ্ছিল। আবার সব কৃষকের পক্ষে প্রয়োজন অনুযায়ী সেচের ব্যবস্থা করাও সম্ভব হচ্ছিল না।

 

এ অবস্থায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি কৃষকদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। বৃষ্টির ফলে জমির ওপরিভাগের মাটিতে আর্দ্রতা বাড়ছে এবং ধানগাছের গোড়ায় প্রয়োজনীয় রস ফিরে পাওয়ার আশা করছেন কৃষকেরা। দীর্ঘদিনের শুষ্কতার পর এই বৃষ্টিকে তাঁরা প্রকৃতির আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকলে ধানগাছের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হবে এবং আসন্ন মৌসুমে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

 

স্থানীয় কৃষকদের মতে, কৃষিকাজ অনেকাংশেই প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। সময়মতো বৃষ্টি হলে জমিতে চাষাবাদ সহজ হয় এবং সেচের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমে। অন্যদিকে বৃষ্টির অভাবে জমি শুকিয়ে গেলে ফসল রক্ষা করতে কৃষকদের বাড়তি অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হয়। বিশেষ করে ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সেচের অতিরিক্ত খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সাম্প্রতিক এই বৃষ্টি তাঁদের কাছে শুধু স্বস্তিই নয়, ফসল বাঁচানোর নতুন আশাও তৈরি করেছে।

 

তবে কৃষকদের আশঙ্কা, প্রয়োজনের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হলে জমিতে আবারও পানির সংকট দেখা দিতে পারে। শুধু গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে সব জমির পানির চাহিদা পূরণ নাও হতে পারে। বিশেষ করে যেসব জমিতে মাটি বেশি শুকিয়ে গেছে এবং ধানগাছের শিষ বের হওয়ার সময় চলছে, সেসব জমিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সেচের ব্যবস্থা রাখা জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।

 

কৃষকদের প্রত্যাশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে ধানগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন খরচের চাপও কিছুটা কমতে পারে। একই সঙ্গে ভালো ফলন হলে কৃষক পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে এবং স্থানীয় কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

সব মিলিয়ে, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি কৃষকদের মনে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে। দীর্ঘদিনের পানির সংকটে শুকিয়ে যাওয়া জমিতে এই বৃষ্টি কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। এখন কৃষকদের প্রত্যাশা, প্রকৃতি অনুকূলে থাকবে, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হবে এবং পরিশ্রমের বিনিময়ে তাঁরা ঘরে তুলতে পারবেন কাঙ্ক্ষিত ধানের ফলন।