অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদেশ থেকে সার আমদানির বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই পদক্ষেপে কানাডা ও রাশিয়া থেকে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ বা এমওপি সার আমদানি করা হবে। এতে সার্বিকভাবে ব্যয় হবে ৭০৮ কোটি ৭৫ লাখ ৪ হাজার ৪৯০ টাকা। সরকারের কৃষি ভর্তুকি খাতের নির্দিষ্ট বাজেট থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভার্চুয়ালি আয়োজিত ওই বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন বা বিএডিসি-র মাধ্যমে সার আমদানির এই প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়। দীর্ঘ পর্যালোচনা শেষে মন্ত্রিসভা কমিটি সার আমদানির মোট চারটি পৃথক প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করে।

অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় কানাডা থেকে মোট ৮০ হাজার টন সার কেনা হবে। কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশনের কাছ থেকে ৪০ হাজার টনের দুটি চালানে এই সার আনা হবে, যার জন্য মোট খরচ হবে ৩৭৭ কোটি ৭৯ লাখ ১৪ হাজার ৪০০ টাকা। অন্যদিকে, রাশিয়ার ফরেন ইকোনমিক করপোরেশনের কাছ থেকেও রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে ৭০ হাজার টন সার আমদানি করা হবে। রাশিয়ার ক্ষেত্রে ৩৫ হাজার টনের দুটি চালানে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৯০ হাজার ৯০ টাকা।

সারের পাশাপাশি বৈঠকে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অন্যান্য খাতের উন্নয়নে আরও কিছু জরুরি প্রস্তাব অনুমোদন লাভ করে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জিটুজি ভিত্তিতে গম আমদানির জন্য দরপ্রস্তাব যাচাই করে সর্বনিম্ন দরদাতার সঙ্গে দরকষাকষির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া আসন্ন অভ্যন্তরীণ আমন সংগ্রহ মৌসুমে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও বিপণনের জন্য ৬৪ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে এক কোটি পিস নতুন পাটের বস্তা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি জ্বালানি খাতের চাহিদা মেটাতে কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির প্রস্তাবও সুপারিশ করা হয়েছে। কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি নামক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই এলএনজি সংগ্রহ করা হবে এবং এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। সরকারের এসব বহুমুখী পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।