আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মক্কা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী প্রভাবশালী তিনটি দেশ পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তবে চার দেশের এই কূটনৈতিক বৈঠকে সুনির্দিষ্টভাবে কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে অংশ নেওয়া পক্ষগুলোর পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি।
বৈঠক চলাকালে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক সংকট নিরসনে পারস্পরিক ঐক্যের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, দেশগুলোর মধ্যে অনর্থক বিভেদ বা দূরত্ব বজায় না রেখে অভিন্ন স্বার্থ এবং মিলগুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পেজেশকিয়ান বিশ্বাস করেন, এই কৌশল অবলম্বন করা গেলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাগুলো অনেক সহজে এবং ফলপ্রসূভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে।
তেহরানের এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠকে ইরানের শীর্ষপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পাশাপাশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই। অন্যদিকে, মক্কা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী তিন দেশের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এবং তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই বৈঠকে অংশ নেওয়া পক্ষগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং চার দেশের মধ্যকার অংশীদারিত্বের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। তেহরানের এই কূটনৈতিক মিশন সফলভাবে শেষ করেই সোমবার রাতে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর উদ্দেশে রওয়ানা হন ইরানের প্রেসিডেন্ট। ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, মস্কোয় পেজেশকিয়ান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন এবং সেখানে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।