জাতীয় ডেস্ক: দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সেন্ট মার্টিন দ্বীপ আবারও দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকরা নিয়মিতভাবে এই দ্বীপে যাতায়াত করতে পারবেন। সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক অফিসিয়াল চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপে দ্বীপকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসায় জড়িত স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট এই সময়জুড়েই পর্যটকরা সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন এবং সেখানে রাতযাপনের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, পুরো মৌসুমেই দ্বীপটি উন্মুক্ত থাকবে এবং পর্যটকরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে সেখানে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে পরিবেশ সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে পর্যটক যাতায়াতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু মাসে দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসার নিয়ম থাকলেও এবার সেইড়কম কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও নিয়মাবলি নির্ধারণ করে দিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে শুধুমাত্র সরকারের অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজগুলো সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে চলাচল করতে পারবে। দ্বীপে অতিরিক্ত জনসমাগম ও পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ করতে প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটকের যাতায়াতের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দ্বীপে ভ্রমণকারী প্রত্যেক পর্যটককে বাধ্যতামূলকভাবে একশ টাকা হারে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি প্রদান করতে হবে।
দ্বীপের নাজুক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ইসিএ ব্যবস্থাপনা বিধিমালার বিধি অনুযায়ী ফি আদায়ের সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া সেন্ট মার্টিন রুটে কোনো ধরনের নৌযান চলাচল করতে না দেওয়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পর্যটন মৌসুম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও ট্যুরিজম বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সরকারের এই ঘোষণার পর থেকেই সেন্ট মার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ পরিচালনার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। সী ক্রু মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দাপ্তরিক কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা দেরি হলেও দ্রুতই নৌ চলাচলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়া হবে। বিগত বছরগুলোতে সীমিত সংখ্যক জলযান চলাচল করলেও এবার পর্যটকদের সংখ্যা ও আগ্রহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকায় অন্তত দশটি জাহাজ নামানোর প্রস্তুতি চলছে। মালিকপক্ষের আশা, নতুন নীতিমালা এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পর্যটন খাতের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।