এইযুগে মুসলমান দের একজন অবিভাবক ছিল । কি মনে হয় কে সে ? তিনি আর কেউ নন ।  ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি । এখন অনেক সুশীলরা বলবে তিনি শিয়া তিনি কাফের ইত্যাদি ইত্যাদি । প্রিয় পাঠক , কে মুসলিম আর কে কাফের সেটা নির্ণয়ের দায়িত্ব আমাদের না । সেটা এক আল্লাহই বুঝেবন । এইসব সুশীলদের কথায় কান দেয়া যাবে না । আজকে আমরা ধর্মীয় ইস্যুর এত বিস্তারিত আলোচনা করব না । আজকে আমরা  আলোচনা করব , একজন মুসলিম শাসক হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মুসলমানদের জন্য কি কি করছেন । আল্লাহর নামে শুরু করছি । প্রথমেই আসবে তিনি ফিলিস্তিন ইস্যুতে কি কি করছেন । আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ফিলিস্তিন ইস্যুতে যে যে কাজ করেছেন , সৌদি আরব , আরব আমিরাত এর ০ দশমিক ১ শতাংশও করে নাই । আপনার কি কখনও ভেবে দেখছেন ? হামাস , ইসলামিক জিহাদ , হিজবুল্লাহ এসব সংগঠন কিভাবে এত অস্ত্র , টাকা পায় ? আপ্নারা জানলে অবাক হবেন এই টাকা বা অস্ত্রের মূল উৎস ইরান । ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ইজরায়েলের উপর যে আঘাত আনা হয়েছিলো হামাসের দ্বারা সেটা সম্ভব হয়েছে ইরানের কারণে । তাছাড়া আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রকাশে ফিলিস্তিনের পক্ষে কঠিন হুংকার দিয়েছিল যেটা করার সাহস কোন দেশই পায় নাই । এরপরে যে অবদানটা আসবে যেটা হচ্ছে তার দেয়া কিছু ফতোয়া । আমরা সকলেই জানি খামেনি একজন শিয়া । সারা বিশ্বে শিয়া সুন্নির ঐক্য ধরে রাখতে তিনি কিছু ফতোয়া জারি করেছিলেন । যেগুলো ঐতিহাসিক ভাবে এখনও আছে । যা শিয়া সুন্নি সংঘাত কমাতে সাহায্য করেছিল । যেমন- তিনি একটি ঐতিহাসিক ফতোয়া জারি করেন, যেখানে সুন্নিদের দ্বারা সম্মানিত মহানবী (সা.)-এর স্ত্রীগণ (বিশেষ করে হযরত আয়েশা র.) এবং সাহাবিদের অপমান বা গালি দেওয়াকে হারাম ঘোষণা করেন। এটি ইসলামিক বিশ্বজুড়ে শিয়া-সুন্নি সহিংসতা কমাতে ভূমিকা রাখে। তারপর মহানবী (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিয়া ও সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি বাড়াতে প্রতি বছর ইরানে আন্তর্জাতিক ‘ইসলামিক ঐক্য সম্মেলন’ আয়োজন করেন । তারপর মুসলিম বিশ্বে ইরানে বিজ্ঞান চর্চা সবচেয়ে বেশি হয় । ইরানের কোম শহরকে বলা হয় জ্ঞানের শহর । তারপর ইরানের ইমাম হোসাইন ইউনিভার্সিটি , তেহরান ইউনিভার্সিটি এখনও বিজ্ঞানের কারণে সেরা । তারপর ইরান যেসব মিসাইলে তৈরি করছে যেমন – ফাত্তাহ সিরিজ , শাহাব সিরিজ , সেজ্জিল , আবু মাহদি এসব মিসাইলের নামকরণ করা হয়েছে ইসলামী ইতিহাস থেকে । ইরানের আইনের মূল ভিত্তি কোরআন সুন্নাহ । প্রিয় পাঠক , কে জান্নাতি আর কে জাহান্নামি সেটা আমাদের দেখার বিষয় না । শহিদ খামেনি ইসলামের জন্য , ফিলিস্তিনের জন্য যা করে গেছেন এর ঋণ আমরা শোধ করতে পারবো না ।  তাকে হয়ত হত্যা করা হয়েছে কিন্তু আমাদের হৃদয়ে তিনি এখনও বেঁচে আছেন । আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদউস নসিব করুক । তার আদর্শে , তার উপদেশে সকলকে মেনে চলার তৌফিক দান করুক । আমিন ।